চক্র
শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়
সহস্রার নাগাল পাওয়া একে দুর্গম
তার ওপর মূলাধার বড়ো মোহময়।
হয়তো বা ছেড়ে আসা খুব কিছু নয়,
তবুও কি সত্যি তাকে ছেড়ে আসতে চাও?
ঘুরেফিরে কাটা ঘুড়ি মাটিতেই পড়ে,
বিষ ওঠে নাড়ি বেয়ে অমৃতের খোঁজে,
নামে কোন রসায়নে মণিপুর ছেড়ে?
তুমি বলো সংসার বীরের আবাস
পরমাত্মা – তিনিও বলহীনের লভ্য নন।
কিন্তু ‘বীরভোগ্যা বসুন্ধরা’র স্পর্ধাবাণী?
তাই দিয়ে বসুধাকে বেঁধে রেখে ফেলে,
প্রকৃতি পূজারি হয়েও তাকেই কাঁদাও?
সেই কান্না শুধু কেন নারী চোখ খোঁজে?
রক্তস্নান যেন তার অমোঘ নিয়তি!
এত অশ্রু, তবু কৈ প্লাবন কোথায়?
প্রলয় ঘটাতে পারি, কিন্তু বড়ো মায়া,
হাত-পা-মুখ-মন বাঁধা তার কাছে।
আক্রোশে ছুঁড়ে ফেলি কাঁচের বাসন –
তারপর আতঙ্কে নিজেই সাফ করি
পাছে কোনও পদাঘাতী পা কেটে যায়।
ক্ষমা করা অকর্তব্য জেনেও বারবার
শুশ্রুষা করে চলি স্বার্থপরতার,
কামনার বিষপান অমৃত জেনে।
No comments:
Post a Comment