একগুচ্ছ কবিতা--
তুলসীদাস ভট্টাচার্য
পরিযায়ী
প্রবাহিত শোকের নিচে একমুঠো আবির ছড়িয়ে/
যে মুছিয়ে দেয় চোখে উদ্বাস্তুর চিহ্ন
সেই তো প্রেমিক।
প্রেমিকারা নদীঘাটে পা ভিজিয়ে চলে যায়
ভেজা কাপড়ে থাকে না আদি মায়ের গন্ধ।
খেয়া ঘাটে যে মাঝি বসে থাকে
রোদ-ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ,
সে জানে কেমন করে সযত্নে
লুকিয়ে রাখতে হয় বানভাসি দেওয়াল চিত্র।
ছইয়ে পা ফেলে চলে গেছে
পরিযায়ী ঠোঁটের বনেদী শূন্যতা ।
একুশের কবিতা
রঙীন পাতাগুলি শুকিয়ে যাবে একদিন
কুঁকড়ে যাওয়া ফ্যাকাসে রোদ
রঙের কথা আর বলবে না
হাওয়ার একটু দোলাতেই সেদিন
কেঁপে যাবে শরীর ও শুক-শারী কথা
সংলাপহীন শেকড়ে রুক্ষ দারুচিনি
ভেতরে ভেতরে অসহায় ডালিম বিকেল।
আর্যসত্য
পুনর্জন্ম হবে না জেনেও
কলাপাতার নিচে তোমার কথায় ভাবি
ভাবনার স্তরটি কখনও গাঢ় মেঘ
কখনও বা ফিনফিনে ওড়নার মত ট্রান্সপারেন্ট /
কিছু গ্রাম্য পাখির ইতিউতি ওড়াওড়ি
ভেসে আসা কিছু মানুষের অস্পষ্ট কন্ঠস্বর
পৃথিবীর কাছে বুদ্ধের যে মগ্নতা ছিল
বৌদ্ধ ভিক্ষুকের পায়ে পায়ে যে হাজার বছরের/
বিনয় পিটকের সূত্রগুলি লিপিবদ্ধ ছিল,
ধুলোমাখা নির্লিপ্ত পায়ে জল দিয়ে
ধুয়ে দেখিনি আর্যসত্যের প্রকৃত স্বরূপ।
সংগ্রাম
সবার নজর ফাত্ নার দিকে
একটু নড়ে উঠলেই টানটান চোখ
ছিপ্ তখন দ্বিতীয় শ্রেণীর লিভার
জলের ভেতর শুরু হয় লড়াই
সময় দ্রুত থেকে দ্রুততর
তাল মেলাতে পারছে না ঘড়ির কাঁটা
স্পেসিফিক উত্তরের আশায়
নর্থ ও সাউথ পোল এখনও ধরে রেখেছে
মাইনাস ডিগ্রি স্কেল ।
শুকতারা
তুমি যাকে অসাধারণ বলো
আমার কাছে তা অতি সাধারণ
রঙের গুলি ফেরি করতে করতে
রঙে চুবিয়ে রাখো মিহি রোদের আদর
আর আমি খুঁজি আকাশ
মাটির সেতারে মরা কান্নার সুর
আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় সেতুহীন পথে
লবনাক্ত শিশিরে ভিজে গেছে একতারা
নক্ষত্রেরাও সরে গেছে আরও দূরে
শেষ রাতে উঠে খুঁজি সাঁঝতারা
ভোরের আকাশে শুকতারা হয়ে উঠল কি!-
No comments:
Post a Comment